আন্তর্জাতিক

হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভবিষ্যতের শহর বানাচ্ছে সৌদি আরব, বাংলাদেশের জন্য কী সুযোগ আনবে

শহরে থাকবে কৃত্রিম চাঁদ, থাকবে উড়ন্ত ট্যাক্সির ব্যবস্থা। বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ করবে রোবট। পুরো শহর হবে কার্বনমুক্ত।

সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ একে বর্ণনা করেছে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প হিসাবে।

লোহিত সাগরের তীরে গড়ে তোলা হচ্ছে সৌদি আরবের বিলাসবহুল শহর দ্যা লাইন। ‘নিওম’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এই শহরের আকার হবে ১৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

কার্বনমুক্ত এই শহরে ১০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করতে পারবেন। শহরটি চলবে শতভাগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিয়ে।

দু’হাজার আঠারো সালের অক্টোবরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেছিলেন, নিওম শহরের প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে শহরটির সব কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে।

ভবিষ্যতের শহর

লোহিত সাগরের তীরে নির্মাণ প্রকল্প ‘নিওমের’ আওতায় ২৬,৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। সেই প্রকল্পের আওতায় দ্যা লাইন শহরটি তৈরি করা হচ্ছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান শহরটি নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করছে, তাদের গোপনীয় কিছু কাগজপত্র দেখার সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, নিওম নামটি এসেছে গ্রিক ও আরবি নাম মিলিয়ে। গ্রিক শব্দ নতুন আর আরবি শব্দ ভবিষ্যৎ, এই দুই মিলিয়ে শহরের নাম রাখা হয়েছে নিওম।

সৌদি আরবের উত্তর পূর্বাঞ্চলে ১০,২৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে শহরটি তৈরি করা হচ্ছে। যার পেছনে খরচ হবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা ৫০ হাজার কোটি টাকা।

তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌদি সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য যে ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ, তারই অংশ নিওম শহর।

কী থাকছে এই শহরে

নিওম ওয়েবসাইটে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘ভবিষ্যৎ এখানে নতুন ঠিকানা পেয়েছে।’

রাতের বেলায় পুরো এলাকা জুড়ে আকাশে থাকবে বিশাল কৃত্রিম চাঁদ। আসল চাঁদের মতোই সেই চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে থাকবে দ্যা লাইন শহর।

নিওম প্রকল্পে কৃত্রিম মেঘমালা তৈরি করার প্রযুক্তি থাকবে। এসব মেঘের ফলে মরুভূমিতে আরও বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হবে।

শিক্ষার ব্যবস্থা হিসাবে থাকবে হলোগ্রাফিক শিক্ষক, যেমনটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর চলচ্চিত্রে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার কর্মসূচি

সেখানে জুরাসিক পার্কের মতো একটি দ্বীপ থাকবে, যেখানে রোবট ডাইনোসরের দেখা পাওয়া যাবে।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষজন সেখানে উড়ন্ত ট্যাক্সিতে চলাফেরা করবেন। কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মানুষজন আনন্দের জন্য গাড়ি চালাবেন, তাদের কাজের প্রয়োজনে গাড়ি চালাতে হবে না। বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ করবে রোবট।

সৌদি যুবরাজ চাইছেন, প্রযুক্তির দিক থেকে শহরটি হবে সিলিকন ভ্যালির মতো, বিনোদনের দিক থেকে হলিউডের মতো আর অবসর কাটানোর জন্য ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মতো।

লোহিত সাগরের সৈকতেও অনেক পরিবর্তন আনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানকার সৈকতগুলোয় কালো রঙের বালুতে ঢেকে দেয়া হবে।

শহরের নিওম বে নামে এলাকায় এর মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। একে বলা হচ্ছে প্রথম দফার প্রকল্প।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুসারে, নিওম বে-তে সাদা বালুর সৈকত থাকবে, আবহাওয়া হবে মনোরম আর বিনিয়োগের জন্য চমৎকার পরিবেশ থাকবে। এটা হবে অনেকটা আবাসিক এলাকার মতো।

এর মধ্যেই নিওম বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে সেটি স্বীকৃতি পেয়েছে।

এই শহরের নিয়মকানুনও সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকার তুলনায় আলাদা থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। এখানকার আইনি ব্যবস্থা সরাসরি সৌদি বাদশার কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

আবাস হারাবে হুয়াইত গোষ্ঠীর সদস্যরা

দ্যা গার্ডিয়ান পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, যে এলাকায় নিওম প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে সৌদি হুয়াইত গোষ্ঠীর প্রায় ২০ হাজার সদস্য বসবাস করে। শহর গড়ে তোলার জন্য তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু তারা কোথায় যাবেন, তাদের নতুন ঠিকানা কি হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

বাংলাদেশের জন্য কি নতুন সুযোগ তৈরি করবে?

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নিওম প্রকল্প নির্মাণে সৌদি আরবে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, দ্যা লাইন শহর তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে এই বছরের প্রথম প্রান্তিকে।

বাংলাদেশে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশে শ্রমিক পাঠিয়ে থাকেন, তাদের আশা, এই সময় বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি চাহিদা তৈরি হবে।

বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যে শ্রমিকরা যায়, তাদের বেশিরভাগই নির্মাণ শ্রমিক বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসাবে যায়। কিন্তু যে মেগা প্রজেক্টটি সৌদি সরকার বানাচ্ছে, সেখানে অনেক টেকনিক্যাল কর্মী দরকার।

”বাংলাদেশ থেকে কিছু নির্মাণ শ্রমিক সেখানে কাজ করছে। কিন্তু টেকনিক্যাল কাজের বেশি সুযোগ পাচ্ছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্সের লোকজন। তবে আমরা আশা করছি, শহরটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেখানে আমাদের শ্রমিকদের কাজের কিছু সুযোগ তৈরি হবে।”

Visit Our Facebook Page : Durdurantonews

Follow Our Twitter Account : Durdurantonews

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × four =

Back to top button
Close