জাতীয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচকরা ‘বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে না

বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সরকার যে নানামুখী সমালোচনার মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সমালোচনা করে যাচ্ছে, তারা বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে না।

এই আইনের অধীনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের সরকার। কারও নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ”, কারো মৃত্যু কাম্য নয়। কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে একটি অশান্ত তৈরি করা, এটাও কিন্তু কাম্য নয়।”

”বাংলাদেশে তেসরা নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেরকম কোন ঘটনা তো আর ঘটেনি এখনো। যারা সেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, তাদের সঙ্গেও অনেকে গাঁটছড়া বেধেছিল, আমি দেখেছি।

”কেউ অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কী করার আছে?” তিনি বলেন।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের খবর জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে কারাগারে লেখকের মৃত্যু, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, করোনাভাইরাসের টিকাসহ নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে।

শেখ হাসিনা বলেন, ”একযুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। ”

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনও দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়।

বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক—এই তিনটি শর্ত পূরণ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা।

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব’

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি স্কুল জীবন থেকেই রাজপথে মিছিল করেছেন, পঁচাত্তর বছরে অনেক কিছু দেখেছেন।

”এদেশের সবাইকে আমার মোটামুটি চেনা আছে। কে কোথায় কি কারণে কি বলে, সেটাও আমার জানা আছে,” তিনি বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব, বিশেষ করে কেউ যেন ‘বিপথে’ যেয়ে অন্যের ক্ষতি না করতে পারে।

”এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের দেশের ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কেউ যেন বিপথে যেতে না পারে, এমন কোন কাজ না করা, যেটা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতি হয়, দেশের মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে,” তিনি বলেন।

”এ ব্যাপারে আজকের দিনে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে এটুকু বলবো, সমালোচনা যারা করার তারা তো করবেই। তারা বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে না,” প্রধানমন্ত্রী বলেন।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে কিনা, এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপপ্রয়োগ হচ্ছে কিনা, সেটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।

”কোনটা অপপ্রয়োগ হচ্ছে, কোনটা হচ্ছে না, এটা একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। আমি তো মনে করি, আইন তার নিজ গতিতে চলছে এবং চলবে,” তিনি বলেন।

আরও পড়ুনঃ আমেরিকার গোপন সামরিক বিমান মহাকাশে রহস্যময় মিশনে

আল জাজিরা

কিছুদিন আগে কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং তার ভাইদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আল জাজিরায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হওয়ার পর থেকে তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে বিভিন্ন মহলে। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’।

এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এ’ব্যাপারে তার কোন প্রতিক্রিয়া নেই।

”একটি চ্যানেল কি করছে না করছে, সেটা দেশবাসী বিচার করে দেখবে। এটা কতটুকু সত্যি, কতটুকু বানোয়াট, আর কী উদ্দেশ্যে তারা সেটা করছে, সেটাও বড় কথা,” তিনি বলেন।

করোনাভাইরাস টিকা

দেশের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি টিকা নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি কবে টিকা নেবেন, এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি টিকা অবশ্যই নেবেন কবে তার আগে দেশের মানুষ কত পার্সেন্ট নিতে পারলেন, সেটা আগে দেখতে চান।

”কারণ আমার একটা টিকার জন্য যদি আরেকটা মানুষের জীবন বাচে, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমাদের একটা টার্গেট করা আছে। সেই সংখ্যা পর্যন্ত যখন হবে, তারপরে আমারটা আমি নেবো। তখন যদি টিকা থাকে, তখন আমি নেবো,” তিনি বলেন।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থাৎ মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদণ্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫.৪।

উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশ ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার।

নিউইয়র্কে ইউএন-সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিগণিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রস্তুতি কালীন সময় ভোগ করবে।

‘আমাদের অপরাধ কী?’

তিনি সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, যাদের বিচার হয়েছে, তাদের দোসররা চুপ করে বসে থাকবে না।

”তাদের বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্নীতি লুটপাটে যারা জড়িত, তাদেরও বিচার হয়েছে,” তিনি বলেন।

”যাদের বিচার হয়েছে, তাদের দোসর, পরিবার, তারা চুপ করে থাকবে নাকি? তাদেরও কিছু ইন্ধন রয়েছে।”

”আর বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভুত মিথস্ত্রিয়া দেখা যায়। আলট্রা রাইট, আলট্রা লেফট সময় সময় এক হয়ে যায়। আমাদের অপরাধটা কি, সেটাই তো আমার বড় প্রশ্ন,” বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

”তারা বাংলাদেশের উন্নতি কীভাবে মানবে? তারা বাংলাদেশের বদনাম করবেই। তবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, সেই সক্ষমতা রয়েছে। কোন চ্যানেল কি করলো বা বললো, সেটা শুনে আমার রাজনীতি না,” তিনি বলেন।

Visit Our Facebook Page : Durdurantonews

Follow Our Twitter Account : Durdurantonews

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − three =

Back to top button
Close